ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত-সংলগ্ন বাংলাদেশে Measles বা হামের সংক্রমণ ভয়াবহ মহামারীর রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক এই প্রাদুর্ভাবের কারণে ইতোমধ্যে অন্তত ১,০০০-এর বেশি নিষ্পাপ শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে এবং প্রায় ১ লক্ষ ৮৭ হাজারের বেশি শিশু এতে আক্রান্ত হয়েছে।
বিগত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ এই প্রাণঘাতী সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেলেও প্রশাসন এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ-লাগোয়া ভৌগোলিক অঞ্চলে এমন একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সীমান্তবর্তী জেলাগুলোসহ গোটা পশ্চিমবঙ্গেও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
World Health Organization (WHO) এবং UNICEF-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই রোগটি হঠাৎ করে এমন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় মারাত্মক ঘাটতি এবং সামগ্রিক টিকাকরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে স্বাস্থ্য প্রশাসনের ব্যর্থতা। সাধারণত হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার পুরোপুরি রুখতে জনসংখ্যার অন্তত ৯৫ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন (যাতে Herd Immunity বা সামগ্রিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়)। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। ২০২৪ সালে হামের টিকার হার যেখানে কমে প্রায় ৮৬ শতাংশে নেমেছিল, পরবর্তীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মাঠপর্যায়ের জটিলতায় তা আরও ব্যাহত হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি বিশেষ জরুরি টিকাদান অভিযানে প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব হলেও প্রায় ৪০ লক্ষ (4 Million) শিশু প্রয়োজনীয় টিকাকরণ থেকে পুরোপুরি বাদ পড়ে গেছে। ফলে কার্যকর হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
সংস্থাটি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে যে, দেশটির ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে এক দ্বিমুখী সংকটের মুখোমুখি। একদিকে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের উপচে পড়া ভিড় ও আইসিইউ-এর সংকট, অন্যদিকে মরসুমি Dengue (ডেঙ্গু) জ্বরের তীব্র প্রকোপ—এই জোড়া আঘাত বাংলাদেশের সামগ্রিক চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং হাসপাতালগুলোর ওপর চরম বিপর্যয়কর চাপ সৃষ্টি করেছে।

